লোকসানের কারণে ঢাকা–ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটের নিয়মিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী পহেলা মার্চ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী এ সংস্থা।
ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা এই ফ্লাইটের প্রধান যাত্রী ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রুটটি পরিচালনায় আর্থিক ক্ষতি বেড়ে যাওয়ায় ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা জানান, ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটটি মূলত একটি লোকসানের রুট।
এই রুটে ফ্লাইট চালাতে বিমানকে প্রতি মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, লন্ডন থেকে ম্যানচেস্টারের দূরত্ব মাত্র তিন ঘণ্টার মতো। ফলে প্রবাসী যাত্রীরা চাইলে বিমানের লন্ডন রুট ব্যবহার করেও ম্যানচেস্টারে যাতায়াত করতে পারেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রুটটি সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমিত সংখ্যক উড়োজাহাজ, কয়েকটি বিমানের মেইনটেন্যান্স প্রয়োজন, এবং হজ মৌসুমে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ব্যবহারের চাপের কারণে এই রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট চালু হওয়ায় উড়োজাহাজ সংকট আরও বেড়েছে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ। লাভজনক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে বিমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ফ্লাইট বন্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প রুটে ভ্রমণের ব্যবস্থা, টিকিট রিফান্ড কিংবা ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তারা আশ্বাস দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। পরিচালনগত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবারও ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করা হতে পারে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ও উত্তর ইংল্যান্ডে বসবাসকারী প্রবাসীরা রুটটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ফ্লাইটটি শুধু যাতায়াত নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল।
