থার্ড টার্মিনালের আয়ের ৭৩% যাবে জাপানের হাতে

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীতিগত ও কৌশলগত জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় আগামী ১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামকে।

চুক্তি অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাকি ২৭ শতাংশ যাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এই রাজস্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত চারটি খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের ওপর এই আয় ভাগাভাগি কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের এমবার্কেশন ফি, টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা দোকান ও লাউঞ্জ ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ এবং কার পার্কিং ফি। আগামী ১৫ বছর এসব খাত থেকে অর্জিত আয়ের বড় অংশই যাবে বিদেশি অপারেটরের কাছে।

তবে বিমানবন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক অ্যারোনটিক্যাল খাতগুলো সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকছে। ওভারফ্লাইং চার্জ, উড়োজাহাজ অবতরণ ফি, বিমান পার্কিং ফি এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি ফি থেকে অর্জিত শতভাগ রাজস্ব সরকারই পাবে। ফলে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চুক্তির আওতায় টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাতেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাংলাদেশের নিজস্ব কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের দায়িত্ব থাকবে যাত্রীসেবা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন নিশ্চিত করা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একইসঙ্গে দেশীয় জনবলও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিকভাবে আয়ের বড় অংশ বিদেশি অংশীদারের কাছে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক রেটিং বৃদ্ধি, নতুন বিদেশি এয়ারলাইন্স আকর্ষণ এবং কার্গো পরিবহন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • থার্ড টার্মিনাল