বাংলাদেশে ফ্লাইট চালাতে চায় ১৫ বিদেশি এয়ারলাইন্স

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অনেক বিদেশি এয়ারলাইন্স ঢাকায় ফ্লাইট চালুর জন্য আবেদন করলেও সক্ষমতার অভাবে তাদের অনুমতি দিতে পারছে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমিত অবকাঠামো ও সক্ষমতা সংকট।

বেবিচক বলছে, বর্তমানে অন্তত ১৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের মাহান এয়ার তেহরান–ঢাকা রুটে ফিফথ ফ্রিডম সুবিধা নিয়ে ফ্লাইট চালু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স তাদের বিদ্যমান এয়ার সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট হালনাগাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সৌদি আরবের নতুন প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার ঢাকায় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইআদিল ও ফ্লাইনাসও বাংলাদেশে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে চায়। তবে স্লট সংকট ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জায়গার অভাবে এসব এয়ারলাইন্সকে অনুমতি দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

এর আগে একই কারণে উইজ এয়ার আবুধাবি বাংলাদেশে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাতিল করেছে। পর্যাপ্ত স্লট না পাওয়ায় দীর্ঘ আলোচনার পরও তারা ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। অথচ গত এক বছরে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৬৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন যাত্রী ব্যবহারের ফলে টার্মিনালের ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় ও ব্যবস্থাপনার চাপ বেড়েছে।

বিমানবন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামোতে নতুন কোনো এয়ারলাইন্সকে স্লট বা উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জায়গা দেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থার্ড টার্মিনাল চালু না হলে এই সংকট কাটার সম্ভাবনা নেই।

জাপানের জাইকা অর্থায়নে নির্মিত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে এখনো এটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে রাজস্ব বণ্টন সংক্রান্ত আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এবিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে করে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল আপাতত ব্যবহারবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রী বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন এয়ারলাইন্স যুক্ত করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো সুযোগ হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সম্ভাব্য রাজস্ব ও ট্রানজিট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে ভবিষ্যতেও এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • এয়ারলাইন্স
  • থার্ড টার্মিনাল
  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর