এয়ারলাইন্সের সারচার্জ কমেছে ৮০% ; টিকেটের দাম কমবে!

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বাংলাদেশের এয়ারলাইন্স খাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। সিভিল এভিয়েশনের আরোপিত সারচার্জ কমিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়ার চাপ কমবে, একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মোট পাওনা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকাই সারচার্জ, আর মূল বকেয়া প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে এয়ারলাইন্সগুলোকে প্রতি মাসে ৬ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হতো, যা এক বছরে গিয়ে দাঁড়াত মূল বকেয়ার ৭২ শতাংশে।

বর্তমানে সবচেয়ে বকেয়ার মাঝে আছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের একারই বকেয়া প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সারচার্জ, আর মূল বিলের পরিমাণ মাত্র ৭৪৫ কোটি টাকা। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। তাদের মোট বকেয়ার বড় অংশই সারচার্জের কারণে জমেছে।

অতিরিক্ত এই আর্থিক চাপের কারণে একের পর এক দেশীয় এয়ারলাইন্স বাজার থেকে হারিয়ে গেছে। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইন্সসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান চেষ্টার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অপারেশন শুরুর পাঁচ বছরের মধ্যেই এয়ার বাংলাদেশ, এয়ার পারাবত, রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স, বেস্ট এয়ার, মিড এশিয়া এয়ারলাইন্স, টিএইচটি এয়ার সার্ভিসেস, ভয়েজার এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ ও জুম এয়ারলাইন্সের মতো সংস্থাগুলো কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার সারচার্জ নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে বিল পরিশোধ করা সম্ভব না হলে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কোনো সারচার্জ ছাড়াই অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাবে এয়ারলাইন্সগুলো। এক মাস পেরিয়ে গেলে দ্বিতীয় মাসে সারচার্জ হবে ১ শতাংশ। বিলম্ব ৬১ থেকে ১২০ দিন হলে সারচার্জ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতি ১২০ দিন বা তার অংশের জন্য ৬ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হবে। সব মিলিয়ে বছরে সর্বোচ্চ সারচার্জ দাঁড়াবে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করা সহজ হবে। এতে ঋণের চাপ কমার পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পরিবহন ব্যয় কমলে তার প্রভাব টিকিটের দামেও পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, এতদিন বাংলাদেশে সারচার্জের হার ছিল প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারতে এই হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৮ শতাংশ, ওমানে ১০ শতাংশ আর পাকিস্তানে মাত্র ২ শতাংশ। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশও এখন আঞ্চলিক বাস্তবতার কাছাকাছি এলো।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এয়ারলাইন্স খাতে দীর্ঘদিনের সংকট কাটবে এবং একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভ্রমণের পথও আরও প্রশস্ত হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সারচার্জ