এমিরেটস এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখা এমিরেটস স্কাইকার্গো দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে বাড়তে থাকা চাহিদা মোকাবিলায় সংস্থাটি নিজস্ব কার্গো সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁরা।
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এমিরেটস স্কাইকার্গো ঢাকায় সপ্তাহে একটি ফ্রেইটার (কার্গো) ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। বাংলাদেশের বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক চাহিদা বিবেচনায় এ নতুন সেবা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে দুবাইকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং রপ্তানিকারকরা নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য স্বতন্ত্র কার্গো পরিবহন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
বিশ্বের শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ এ নতুন সেবার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। এর ফলে অতিরিক্ত কার্গো বহনের সুযোগ তৈরি হবে, দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।
এছাড়া মার্চ থেকে ভারতের মুম্বাই ও আহমেদাবাদে সপ্তাহে দুটি করে ফ্রেইটার ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এয়ারলাইন্সটির মোট কার্গো বহন সক্ষমতা গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩,০০০ টনে উন্নীত হবে।
বর্তমানে এমিরেটস ভারতে সপ্তাহে তিনটি ফ্রেইটার ফ্লাইট পরিচালনা করছে। একটি মুম্বাই এবং দুটি আহমেদাবাদে। এ ছাড়াও ভারতের নয়টি শহরে চলমান ১৬৭টি সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের বেলিহোল্ড কার্গো সুবিধা এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করছে।
এয়ার কার্গোর পাশাপাশি, এমিরেটস স্কাইকার্গো ভারতের বিভিন্ন অফলাইন গন্তব্য সংযুক্ত করতে একটি ব্যাপক ট্রাকিং নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। কেবল ২০২৫ সালেই স্কাইকার্গোর ১,০০০-এর বেশি ট্রাক মিলিতভাবে প্রায় ৫,৫০০ টন কার্গো পরিবহন করেছে।
কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফ্রেইটার বিমান, সড়কভিত্তিক ফিডার সার্ভিস এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত লজিস্টিকসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সমাধানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোকে সমর্থন করা এমিরেটসের কৌশলের একটি অংশ।
বর্তমানে এমিরেটস ঢাকায় এবং ঢাকার রুটে সপ্তাহে ২১টি ওয়াইড-বডি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যেখানে বেলিহোল্ড কার্গো সুবিধাও রয়েছে। এর ফলে দুবাইকে কেন্দ্র করে বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি গন্তব্যের সঙ্গে ধারাবাহিক সংযোগ নিশ্চিত হচ্ছে।
