ঢাকা থেকে করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে যখন তুমুল বিতর্ক চলছে, তখন এর নেপথ্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট। এই উদ্যোগকে কেবল রাজনৈতিক সখ্যতা হিসেবে না দেখে, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক করিডোর’ বা লাভজনক বাণিজ্যিক রুট হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বিমান উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এই রুটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আবেগ দুরে সরিয়ে ব্যবসার দৃষ্টিতে দেখলে, এই রুটটি হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অন্যতম লাভজনক বা ‘স্ট্র্যাটেজিক করিডোর’।
পরিসংখ্যান বলছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোট যাত্রীর প্রায় ৮০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বর্তমানে ফ্লাইট সংকট এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারসাজিতে টিকিটের চড়া মূল্য দিতে গিয়ে দিশেহারা হচ্ছেন এই প্রবাসীরা। এই সমস্যা সমাধানে পাকিস্তান রুটের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে চায় বিমান। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে জেদ্দা, রিয়াদ কিংবা দুবাইয়ের মতো গন্তব্যগুলো মাত্র ২ ঘণ্টার পথ।
উপদেষ্টার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রুটের মূল লক্ষ্য পাকিস্তানগামী যাত্রী নয়, বরং একে একটি ‘ট্রানজিট হাব’ হিসেবে ব্যবহার করা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্য রুটে যে দীর্ঘ সময় এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়, পাকিস্তান হয়ে ট্রানজিট নিলে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এটি বিমানের অপারেশনাল খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি একটি সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।
দীর্ঘদিন ধরে বিমান খাতের টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙার যে চেষ্টা চলছে, এই নতুন রুটটি সেখানে বড় অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে টিকিটের দাম কমানো সম্ভব হলে সরাসরি লাভবান হবেন প্রবাসী শ্রমিকেরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে রাজনীতির চেয়ে ‘পিওর ইকোনমিক্স’ বা খাঁটি অর্থনীতিই মূল চালিকাশক্তি।
তবে এই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাটি ফলপ্রসূ করতে হলে বিমানের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে প্রবাসীদের গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তবে তা দেশের এভিয়েশন খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই এখন এই রুটের লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ।
