বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
লেখক:
শাহানুর রহমান মুকুট প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার তুলনায় এটি বেশি হলেও মূল বরাদ্দ ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার চেয়ে কম।
আজ জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বরাদ্দ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আধুনিক, দক্ষ ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমান বহর সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজও এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করছে।
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি করেছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে বিমানের বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগ বৃদ্ধি, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও জানান, বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কার্গো ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা এবং যাত্রীসেবা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে, যাতে একটি নিরাপদ ও দক্ষ বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিক হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার পর্যটন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ রোডম্যাপ তৈরি করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।