হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনুমোদনবিহীন অর্থ পরিশোধের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্পের সব ব্যয় সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অর্থ অনুমোদনের বাইরে ব্যয় করা হয়নি।
বেবিচকের দাবি, থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কারিগরি প্রস্তুতি, অপারেশনাল সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এসব প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরে টার্মিনালটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
সংস্থাটি জানায়, গণমাধ্যমে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ডিপিপি ২০১৭ সালে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকায় অনুমোদিত হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ২০১৯ সালে সংশোধিত ডিপিপির ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। পরে ভেরিয়েশন কাজ অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, যা অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।
গাছ লাগানো, পুকুর নির্মাণ, মাটি অপসারণ, ডিজেল পাম্প, ইউপিএস সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় এবং নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের অভিযোগেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি। বেবিচকের দাবি, এসব ব্যয় আন্তর্জাতিক চুক্তি, FIDIC-এর শর্ত, প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারের অনুমোদন এবং সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। সফট ওপেনিং বাবদ ৪৪ কোটি টাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অডিট আপত্তির পর বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়ম ও অতিরিক্ত পরিশোধের অভিযোগ প্রসঙ্গে বেবিচক বলেছে, এটি মূলত ফরেন এইডেড প্রজেক্টস অডিট ডিপার্টমেন্ট (FAPAD)-এর একটি অডিট আপত্তি, যা এখনো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংস্থার দাবি, ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটির পর্যালোচনায় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ ঠিকাদারের চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য হওয়ায় অডিট আপত্তির জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।
এ ছাড়া প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে বেবিচক। সংস্থাটির ভাষ্য, প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় বা অবৈধ ভেরিয়েশনের বিষয়ে যে মন্তব্যগুলো প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বেবিচক আরও জানায়, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক দরপত্র, সংশোধিত ডিপিপি এবং প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। তাই প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার স্বার্থে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।
