বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর জন্য বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের মাত্র চার দিনের মাথায় তৎপরতা বাড়িয়েছে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস। সংস্থাটি বাংলাদেশের বহরে নিজেদের উড়োজাহাজ যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ‘মিক্সড ফ্লিট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (সকাল ১১টা) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় এয়ারবাস বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার বহরে মিক্সড ফ্লিট গঠনে তাদের আগ্রহ তুলে ধরে। এসময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতে ফ্লিট উন্নয়নে এয়ারবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে ২০২৪ সালে বিমান ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেয়। সে অনুযায়ী বোর্ড চারটি উড়োজাহাজ কেনার অনুমোদন দেয়, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবে প্রতিটি উড়োজাহাজের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার অফেরতযোগ্য প্রতিশ্রুতি ফি রাখার কথা ছিল।
অন্যদিকে, বোয়িংয়ের প্রস্তাবে এই খরচ ছিল মোট এক মিলিয়ন ডলার। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে—শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর—চুক্তিটি আর এগোয়নি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে এবং আলোচনা স্থগিত করে।
নতুন প্রেক্ষাপটে বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ই আবার প্রস্তাব দেয়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমন্বয়জনিত কারণে সরকার শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে এগোয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এয়ারবাসের সাম্প্রতিক তৎপরতা ভবিষ্যতে বিমানের বহরে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
