শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৫টি নতুন এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৫টি নতুন এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর, প্রশিক্ষণ শেষ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২৫টি নতুন এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

নতুন সংযোজিত যন্ত্রগুলো হলো NUCTECH TR2000DC মডেলের। এগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগের নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

বেবিচক জানিয়েছে, মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (OEM) বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণে যন্ত্র পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া হয়।

NUCTECH TR2000DC আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (IMS) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে পারে। এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হওয়ায় যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেবিচকের মতে, নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা উন্নত হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়বে। প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে ইটিডি বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বেবিচক আরও জানিয়েছে, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশিতে নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, নভেম্বর ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) অডিট সামনে রেখে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদারে নতুন এই প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বেবিচক।

শাহজালালের পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

বেবিচক বলছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমন্বিত ও শক্তিশালী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • বেবিচক
  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • সর্বশেষ