১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে ইউএস-বাংলার নতুন দিগন্ত

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত ‘Beyond with Boeing’ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের সেলস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিমান ও পর্যটন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, অর্ডারকৃত উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি নতুন প্রজন্মের Boeing 737-8 এবং ৬টি Boeing 737-800। সবগুলো উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হবে। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, আধুনিক কেবিন, বড় আকারের ওভারহেড বিন, প্রতিটি আসনে বিদ্যুৎ সংযোগ, ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা থাকবে।

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটি শুধু বহর সম্প্রসারণ নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ (এমআরও), কার্গো, ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন অবকাঠামো উন্নয়নেও বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি জানান, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, বেইজিং, শেনজেন, পেনাং, জোহর বাহরু, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাহসহ নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানায় ইউএস-বাংলা। এ ছাড়া একটি এভিয়েশন একাডেমি, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র (এমআরও), কার্গো কার্যক্রম এবং পাইলট ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা এই বিনিয়োগকে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এ উদ্যোগ দেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • travel based first digital media
  • ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
  • বহর সম্প্রসারণ
  • বোয়িং
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া