গত ছয় মাসে বিমানবন্দরে কোন লাগেজ চুরি হয়নি

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৫৭ minutes ago

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ চুরি, কাটা, হারানো ও অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এয়ারলাইন্স অপারেশন কমিটি, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এবং এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

লাগেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের শরীরে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বিভিন্ন সংস্থার পৃথক সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে লাগেজ পৌঁছানোর পর সেখান থেকে চুরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কর্মী লাগেজ থেকে চুরি বা চুরির চেষ্টা করলে ক্যামেরার ফুটেজে তা শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, এভসেকের সহযোগিতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অন্য এক যাত্রীর লাগেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, টাকা ও একটি ছোট ব্যাগ চুরির অপরাধে ‘রিনা’ নামের এক নারী যাত্রীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তার দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক সময় যাত্রীর লাগেজ উৎস দেশের বিমানবন্দরেই নিরাপত্তা তল্লাশির সময় খোলা বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপত্তা-নিষিদ্ধ সামগ্রী, নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দাহ্য পদার্থ বা অন্যান্য বহন নিষিদ্ধ সামগ্রী থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। শেষ ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশির সময় মাস্টার কি দিয়ে খোলা যায় এমন তালা অথবা টিএসএ-অনুমোদিত তালা না থাকলে লাগেজের তালা ভেঙে যাত্রীকে ছাড়াই তল্লাশি করা হতে পারে।

তবে কিছু বিমানবন্দর তল্লাশির পর লাগেজে নোটিশ বা এ সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করলেও অনেক বিমানবন্দর তা করে না। ফলে লাগেজে কোনো জিনিসপত্র না কমলেও শুধু তালা ভাঙা বা লাগেজ খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলে অনেক সময় বাংলাদেশ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর চুরির অভিযোগ ওঠে।

এই বিভ্রান্তি দূর করতে উৎস দেশের বিমানবন্দরে শেষ ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশির পর লাগেজ খোলা বা কোনো সামগ্রী জব্দ করা হলে যাত্রীকে অবহিত করার জন্য লাগেজে সংশ্লিষ্ট নোটিশ দেওয়া নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে কেউ চুরি করেছে বা চুরির চেষ্টা করেছে—এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্মী বা যাত্রী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো বিমান বা এয়ারলাইন্সের কর্মী এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তবে গত ছয় মাসে লাগেজ চুরি সংক্রান্ত বহু অভিযোগ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সব ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে আসার পর এদেশের বিমানবন্দরে কোনো কিছু চুরি হওয়ার অভিযোগগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের ভিড়ে এই তথ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কোনো মালামাল missing থাকলে যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। বিমান থেকে নেমে লাগেজ নিয়ে সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল সংলগ্ন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও অভিযোগ জানানো যাবে।

যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বিমানবন্দরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিমানবন্দরে ৮৩৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ১৫৪টি মামলায় মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ৫২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, এভসেক, এপিবিএন, বিমানবন্দর থানা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ ও লাঘবে কাজ করছে ‘টিম এয়ারপোর্ট’।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিমানবন্দরের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

  • লাগেজ চুরি
  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • সর্বশেষ