গত ৩০ বছরে বন্ধ দেশের ১০ এয়ারলাইন্স

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

গত তিন দশকে বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতে একাধিক এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করলেও, টিকে থাকতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান। উচ্চ পরিচালন ব্যয়, জ্বালানির মূল্য, কর কাঠামো এবং নীতিগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে গত ৩০ বছরে অন্তত ১০টি বেসরকারি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধ করেছে। ফলে দেশের আকাশপথে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর উপস্থিতি ও বাজার অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় অপারেটরদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৩৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের বড় একটি অংশ বিদেশি সংস্থাগুলোর হাতে চলে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জেট ফুয়েলের উচ্চ মূল্য। পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভজনকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক, কাস্টমস জটিলতা, বিমানবন্দরের বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ, হ্যাঙ্গার ভাড়া এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে ভাড়া ও সেবার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি অপারেটরদের।

গত তিন দশকে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উল্লেখযোগ্য দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। একসময় বড় বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ ও প্রতিযোগিতার কারণে তারা বাজার থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি শক্তিশালী দেশীয় এভিয়েশন শিল্প গড়ে তুলতে হলে নীতিগত সহায়তা, কর কাঠামোর সংস্কার এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সমান ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের বেসরকারি বিমান খাত আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তাদের মতে, গত তিন দশকে একের পর এক দেশীয় এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বর্তমানে পরিচালনাধীন দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্যও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।

  • এয়ারলাইন্স
  • বিদেশি এয়ারলাইন্স