বিমানে চড়লে কেন কান ব্যথা করে?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

প্রথমবারের মতো হজ সফর কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে বিমান ভ্রমণে গেলে অনেক যাত্রীর জন্য বড় এক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় কানে ব্যথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় ‘এয়ারোপ্লেন ইয়ার’ বা ‘ব্যারোটাইটিস’। বিশেষ করে বিমান অবতরণের সময় হঠাৎ কানে চাপ, বন্ধ লাগা বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, এর মূল কারণ বায়ুচাপের দ্রুত পরিবর্তন। আমাদের কানের ভেতরে ‘ইউস্টেশিয়ান টিউব’ নামে একটি সরু নালী থাকে, যা কানের ভেতরের ও বাইরের বায়ুচাপ সমান রাখতে কাজ করে। বিমান যখন নামতে শুরু করে, তখন বাইরের বায়ুচাপ দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু কানের ভেতরের চাপ সঙ্গে সঙ্গে সমান হতে পারে না। ফলে চাপের পার্থক্যের কারণে কানের পর্দা ভেতরের দিকে টেনে ধরে এবং ইউস্টেশিয়ান টিউব সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই তৈরি হয় ব্যথা বা অস্বস্তি।

তবে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। অবতরণের সময় হাই তোলা বা বারবার লালা গিলে ফেললে ইউস্টেশিয়ান টিউব খুলে যায় এবং চাপ সমান হয়। চুইংগাম বা লজেন্স চিবোলেও একই উপকার পাওয়া যায়, কারণ এতে ঘনঘন ঢোক গেলার প্রক্রিয়া সচল থাকে।

আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো ‘ভ্যালসালভা মেনুভার’। এতে নাক চেপে ধরে মুখ বন্ধ রেখে আলতোভাবে নাক দিয়ে বাতাস বের করার চেষ্টা করতে হয়। এতে কানের চাপ সমান হতে সাহায্য করে। তবে খুব জোরে চাপ প্রয়োগ না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া অবতরণের সময় ঘুমিয়ে না থাকাই ভালো, কারণ ঘুমালে সচেতনভাবে ঢোক গেলা সম্ভব হয় না। বিশেষ ফিল্টারযুক্ত ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করলেও বায়ুচাপের পরিবর্তন ধীরে ঘটে এবং কানে কম চাপ পড়ে।

সবচেয়ে শিশুরা এ সমস্যায় বেশি ভোগে, কারণ তাদের ইউস্টেশিয়ান টিউব তুলনামূলকভাবে সরু। তাই অবতরণের সময় শিশুদের দুধ বা পানি খাওয়ানো, কিংবা চুষি দিলে ব্যথা কমতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কারও যদি আগে থেকেই ঠান্ডা, সর্দি বা সাইনাসের সমস্যা থাকে, তবে বিমানে ওঠার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে নাসাল স্প্রে ব্যবহার করলে কানে ব্যথার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

  • কানে ব্যথা
  • বিদেশযাত্রা