থার্ড টার্মিনাল নিয়ে জাপান-যুক্তরাজ্যের পাল্লা; চাপে পড়েছে বিমান

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে এভিয়েশন খাতে জোরালো প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। জাপান ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহে এই প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই এর পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা সুপ্রতিষ্ঠিত। টোকিওর নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরের মতো ব্যস্ত হাবগুলোতে উচ্চ দক্ষতায় যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী আস্থা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যও এই খাতে সক্রিয় আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর পর থেকেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেনজিস এভিয়েশন’ এবং ‘সুইসপোর্ট’-এর মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, মেনজিস এভিয়েশন বিশ্বের ৬৫টিরও বেশি দেশে ৩৫০টিরও বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রতি বছর লাখ লাখ ফ্লাইট ও বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিং করে থাকে। একইভাবে সুইসপোর্ট ৪৫টি দেশের ২৮০টিরও বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় একচেটিয়া ভূমিকা পালন করলেও সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। লাগেজ ডেলিভারিতে দীর্ঘ বিলম্ব, আধুনিক সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা নিয়ে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অসন্তোষ রয়েছে।

যদিও সংস্থাটি সম্প্রতি নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে থার্ড টার্মিনালের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের স্থাপনায় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং সময়নিষ্ঠতার বিষয়গুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপান বা যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে দেশের এভিয়েশন খাতে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে। এর ফলে সেবার মান বাড়বে, যাত্রীসুবিধা উন্নত হবে এবং কার্গো ব্যবস্থাপনাও আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনালকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি অপারেটর নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।

  • থার্ড টার্মিনাল