হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল এখন তৃতীয় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। প্রায় সাত বছর ধরে চলা এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি দুই সরকার পেরিয়ে এখন নতুন প্রশাসনের কাছে। নির্মাণকাজ শেষ হলেও অপারেশনাল জটিলতায় এখনো চালু করা যায়নি টার্মিনালটি।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টার্মিনালের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয় এবং আংশিক উদ্বোধনও করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাকি কাজ শেষ হলেও ব্যবস্থাপনা ও চুক্তিগত জটিলতার কারণে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সামনে এসেছে নতুন নতুন সমস্যা।
এর আগে, থার্ড টার্মিনাল ১৫ বছরের জন্য জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। জাপান লাভজনক খাত থেকে বড় অংশ দাবি করলেও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তা মেনে নেয়নি। ফলে আলোচনাটি শেষ পর্যন্ত অগ্রসর হয়নি।
এদিকে চুক্তি অনিশ্চিত থাকায় আরেকটি আর্থিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। টার্মিনালের কাজ শেষ হওয়ার পরও সিভিল এভিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তা বুঝে না নেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের বাইরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। অতিরিক্ত সময় ধরে দেখভালের ব্যয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছে।
তবে প্রকল্পটি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি নকশাগত ত্রুটির কারণে সিলিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং টার্মিনালের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ না থাকার বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নকশাগত সীমাবদ্ধতার কারণেই টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে এ অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নকশা সংশোধন ও প্রযুক্তিগত সমাধান বাস্তবায়নে আরও ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অপারেটর নিয়োগ দিতে পারলে চালুর পথে বড় অগ্রগতি সম্ভব। অপারেটর দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো কার্যক্রম বুঝে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা শুরু করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় প্রয়োজন হবে।
সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনালের ভবিষ্যৎ এখন নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, জাপানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা কিংবা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান নির্ধারণ করছে প্রকল্পটির গতি।
যথাযথ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ২০২৬ সালেই টার্মিনাল চালুর সম্ভাবনা রয়েছে নতুবা দীর্ঘসূত্রতার আশঙ্কা থাকছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
