সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪৭০.৮৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ল আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পে দেরি, নকশা পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত নির্মাণকাজের কারণে প্রকল্পের মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ২,৭৮০.৬৬ কোটি টাকা। আগে এই ব্যয় ছিল ২,৩০৯.৭৯ কোটি, যা প্রায় ২০.৩৯% বেশি।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক।
নতুন ব্যয় কাঠামো অনুযায়ী, সরকার দেবে ২,৭১৮.৫৪ কোটি টাকা, আর বেবিচক নিজস্ব তহবিল থেকে যোগ করবে ৬২.১২ কোটি টাকা।
টার্মিনাল ভবন ৩,৬৪৬ বর্গমিটার বাড়ছে
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও কার্গো চলাচল দ্রুত বৃদ্ধির কারণে অবকাঠামো সম্প্রসারণই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
টার্মিনাল ভবনের আয়তন ৩,৬৪৯ বর্গমিটার বাড়ানো, অতিরিক্ত ভূমি উন্নয়ন ও নাগরিক নির্মাণকাজের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কাজে প্রায় ৪৮৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে আধুনিক আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল, কার্গো কমপ্লেক্স, নতুন কন্ট্রোল টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে ও পার্কিং অ্যাপ্রোন এবং ড্রেনেজ ও ইউটিলিটি অবকাঠামো।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৪.৪৯% (৩৩৪.৬০ কোটি টাকা) এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২২.৯% ।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী , প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান ও নকশা ইতোমধ্যে অপারেশনাল চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের ড্রেনেজ ও ইউটিলিটি ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের প্রয়োজন ও কার্গো চাহিদা বাড়ায় সম্প্রসারণ জরুরি
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বৃহৎ প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পায়ন ও কার্গো পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় সম্প্রসারণ শেষে বিমানবন্দরটি একটি আধুনিক আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক হাবে পরিণত হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মাণ, ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন
সিলেট শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওসমানী বিমানবন্দর ১৯৪৪–৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত হয়। প্রথমে ‘সিলেট সিভিল এয়ারপোর্ট’ নামে পরিচিত বিমানবন্দরটি বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো। পরে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে নামকরণ করা হয়।
১৯৮৬ সালে এটি উন্নীত হয় পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে। ১৯৯৮ সালে সম্প্রসারণের পর এয়ারবাস A310 পরিচালনা শুরু হয়। ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায় বিমানবন্দরটি। ২০০৪ সালে রাতের ফ্লাইট চালু হয়। ২০০৬ সালে নতুন টার্মিনাল ও জেট ব্রিজ যুক্ত হওয়ায় ২০০৭ সাল থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়।
২০১৫ সালে ফ্লাই দুবাই প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে সিলেট–দুবাই রুট চালু করে।
বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটকে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করছে।
