অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় ২০২৬-২০৩০ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা জোরদারে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-ন্যাপ) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ সরকার। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন-জিসিএম) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

রোববার ঢাকায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যা বাংলাদেশ মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্সের (বিএমসিটি) সহ-সভাপতি হিসেবে আইওএমের সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইওএম বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের এই জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন; আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস; বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২১ মে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়। এতে বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব, অগ্রগতি এবং অবদান তুলে ধরা হয়।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোক্তার আহমেদ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আইএমআরএফ ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, অর্জন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।

বক্তারা জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত ও টেকসই সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসনের ইতিবাচক প্রভাবকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের নবায়নকৃত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত তুলে ধরা, জিসিএম বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, সাফল্য ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

  • travel based first digital media
  • অভিবাসন
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া