দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আন্তর্জাতিক আকাশপথে ব্যস্ত হয়ে উঠছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পুনরায় চালুর পাশাপাশি একাধিক নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ওমানের বাজেট এয়ারলাইন্স সালামএয়ার সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। পাশাপাশি ইস্তাম্বুল, দুবাই, শারজাহ, সৌদি আরব ও ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রত্যাবর্তনের প্রথম বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় গত ১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন মাস্কাট থেকে সালামএয়ারের একটি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লাইদুবাইয়ের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় সিলেট বিমানবন্দরে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট ছিল না।
সালামএয়ারের প্রথম ফ্লাইটে মাস্কাট থেকে ১৩৩ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সিলেটে আসেন। পরে একই উড়োজাহাজে ২২৩ জন যাত্রী মাস্কাটের উদ্দেশে সিলেট ছাড়েন। প্রাথমিকভাবে সিলেট-মাস্কাট রুটে সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইন্সটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে পাঁচ দিনে উন্নীত করার কথা রয়েছে। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্কাটকে সংযোগকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যসহ ৪০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন সিলেটের যাত্রীরা।
সিলেটের আন্তর্জাতিক আকাশপথে পরবর্তী বড় সংযোজন হতে পারে তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্স। সিলেট-ইস্তাম্বুল রুটে তাদের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রুটটি চালু হলে ইস্তাম্বুল হয়ে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রানজিট সুবিধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজও শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
দুবাইও সিলেটের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফ্লাইদুবাই সিলেট থেকে দুবাই রুটে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি এয়ার আরাবিয়ার শারজাহ রুট এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দেশীয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও সিলেট থেকে দুবাই ও ভারতের সম্ভাবনাময় গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া আগামী বছর ভারতের গোয়াহাটি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।
সিলেটের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে চার মাস বন্ধ থাকার পর গত জুলাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইটও পুনরায় চালু হয়েছে। ম্যানচেস্টারের পাশাপাশি ইস্তাম্বুল, দুবাই, মাস্কাট ও ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে সিলেটের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতে বিকল্প বাড়বে। একই রুটে একাধিক এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম থাকলে ভাড়া ও সেবার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক সিলেটি বসবাস করেন। তাদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদাকে কেন্দ্র করে সিলেটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাড়লে যাত্রীদের সময় ও যাতায়াতের জটিলতা কমার পাশাপাশি ঢাকা বিমানবন্দরের ওপরও কিছুটা চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নতুন রুট চালুর পাশাপাশি এসব রুটে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে। তাই নতুন রুট চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সিলেটের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।
