২০৫০ সালের মধ্যে বিমান খাতের কার্বন নিঃসরণ শূণ্যে নামানোর পরিকল্পনা

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ১ দিন আগে

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) আয়োজিত ‘এভিয়েশন ক্লাইমেট উইক’ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বিমান খাতের কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পখাতের নেতারা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা।

 

সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিনের আলোচনায় ২০৫০ সালের মধ্যে বিমান খাতকে নিট-শূন্য (Net Zero) কার্বন নিঃসরণে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

অংশগ্রহণকারীরা জানান, আইকাও-এর সমন্বিত বৈশ্বিক কাঠামোর সহায়তায় টেকসই বিমান জ্বালানি (Sustainable Aviation Fuel-SAF) উৎপাদন বৃদ্ধি বিমান খাতের কার্বনমুক্তকরণ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্য বিনিময় প্ল্যাটফর্ম, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগের প্রসারও খাতটিতে সমন্বয় বাড়াতে সহায়তা করছে।

 

আলোচনায় বলা হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়াও কনট্রেইলসহ অন্যান্য নির্গমন বিমান চলাচলজনিত উষ্ণায়নের প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেখা গেছে, কনট্রেইল তৈরির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এড়িয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করলে জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 

বিশেষজ্ঞরা আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, রিয়েল-টাইম ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং উন্নত গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের মতো পরিচালনাগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি হাইড্রোজেনচালিত উড়োজাহাজের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নির্গমন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তারা।

 

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রক ও সনদায়ন কাঠামোরও উন্নয়ন প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় আইকাও-এর ভূমিকার প্রশংসা করে তারা আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক নীতিমালার আহ্বান জানান।

 

নির্গমন হ্রাসের পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন (Climate Adaptation) প্রথম দিনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। অংশগ্রহণকারীরা সতর্ক করে বলেন, চরম আবহাওয়া ইতোমধ্যে বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুত ও বেশি প্রভাব ফেলছে।

 

সেশনে উপস্থাপিত এক জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ অংশীজন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলেও সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি মূল্যায়নের বাইরে গিয়ে বাস্তব অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা অনেক বিমানবন্দর সীমিত সম্পদ ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং অংশীজনদের অপর্যাপ্ত সম্পৃক্ততাও অভিযোজন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মত দেন বক্তারা।

 

তারা আরও বলেন, অনেক বিমানবন্দরের কাছে পর্যাপ্ত স্থানীয় জলবায়ু তথ্য ও পূর্বাভাস সরঞ্জাম না থাকায় পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে আবহাওয়া সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে অভিযোজন সক্ষমতা উন্নয়নে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

আলোচনার শেষে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা সংযুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় অভিযোজন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হলে বিমানবন্দরগুলো পরিচালনাগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অর্থনৈতিক মূল্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে।

 

উল্লেখ্য, আইকাও-এর এভিয়েশন ক্লাইমেট উইক সপ্তাহজুড়ে চলবে। এতে টেকসই বিমান জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে আরও কয়েকটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আইকাও

  • travel based first digital media
  • আইকাও
  • কার্বণ নিঃসরণ
  • বিমানবন্দর
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া