নভেম্বরে রাত্রিযাপন করা যাবে না সেন্টমার্টিনে, অন্য সময়ে কড়াকড়ি

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বুধবার( ২২ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ–২ শাখা থেকে দ্বীপের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১২ দফা নির্দেশনা সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা, ২০২৩’-এর ভিত্তিতে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বীপের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষা দিয়ে পর্যটন কার্যক্রমকে আরও দায়িত্বশীল ও টেকসই ধারায় পরিচালিত করা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতীত সেন্টমার্টিনগামী কোনো নৌযানকে অনুমতি দিতে পারবে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) । পর্যটকদের অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে।  কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ বলে গণ্য করা হবে।

দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকদের শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে এবং রাত্রি যাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত সংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজারের বেশি পর্যটকের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সেন্টমার্টিনের সমুদ্র সৈকতে রাতের বেলায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে কোনো আয়োজন করা বা বারবিকিউ পার্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি, এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও শামুক–ঝিনুকসহ যেকোনো প্রাণী বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এরূপ কর্মকান্ড কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

দ্বীপে পলিথিন বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট, এবং ৫০০ বা ১০০০ মিলিলিটারের বোতলজাত পানি বহন করতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দ্বীপটি ধীরে ধীরে টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এমনটাই সরকারের প্রত্যাশা।

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বাস্তবায়ন বিষয়ে এক সভা আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং ই–টিকেটিং ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভ্রমণ
  • সেন্ট মার্টিন
  • সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন