বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA)। সংস্থাটি বলেছে, সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ যাত্রীসাধারণের পছন্দ, বিমান সংযোগ (কানেক্টিভিটি) এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আইএটিএ এই আপত্তি জানায়।
চিঠিতে আইএটিএ উল্লেখ করে বলে, প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর ধারা ৪৩ এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা মুক্ত বাজার অর্থনীতির নীতির পরিপন্থি। সংস্থাটির দাবি, সত্তরের দশকের শেষদিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিমান ভাড়া প্রকৃত অর্থে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
আইএটিএর মতে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা (প্রাইস সিলিং) নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে, যার ফলে পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবে শেষ পর্যন্ত টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বা মার্জিনাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বিমানসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
চিঠিতে ‘গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার প্রসঙ্গ তুলে আইএটিএ জানায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বর্তমানে বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে পূর্ণ বাণিজ্যিক স্বাধীনতা দেয়। এমনকি ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ‘ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এই বাণিজ্যিক স্বাধীনতার নীতি স্বীকৃত। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘ফেয়ার ফাইলিং’ (Fare Filing) বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। আইএটিএ জানতে চেয়েছে, এটি কেবল তথ্য প্রদানের জন্য নাকি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে।যদি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বিভিন্ন লেভি বা চার্জ আরোপের জন্য ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের বিষয়েও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএটিএ। সংস্থাটির দাবি, যেকোনো চার্জ নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর নীতিমালা অনুযায়ী তা ব্যয়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে।
এছাড়াও চিঠির শেষাংশে আইএটিএ সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি।
উল্লেখ্য, আইএটিএ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এবং এয়ার অ্যাস্ট্রাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
