বিমানের ১৪ বোয়িং কবে আসবে, আর কয়টি যাবে?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর থেকেই এভিয়েশন অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের এক পোস্টে ভবিষ্যতে আরও বোয়িং কেনার ইঙ্গিত পাওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের ধারণা, বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে নতুন ১৪টি যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৩৩টিতে। তবে বাস্তব চিত্রটি এতটা সরল নয়।

কারণ, নতুন ১৪টি বোয়িং একসঙ্গে বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে না। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে এবং শেষটি ২০৩৫ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অর্থাৎ পাঁচ বছর ধরে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।

এই সময়ের মধ্যে বর্তমান বহরের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজও অবসরের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৪টিই বোয়িং। এর মধ্যে রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০।

সবচেয়ে পুরোনো চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআরের একটি ২০১১ সালে এবং বাকি তিনটি ২০১৪ সালে বহরে যুক্ত হয়। ফলে ২০৩৫ সালে এগুলোর বয়স দাঁড়াবে প্রায় ২১ থেকে ২৪ বছর। একই সময়ে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-এর বয়সও হবে প্রায় ১৬ থেকে ২০ বছর।

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট অবসরের বয়স না থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) বলছে, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। তবে অবসরের সিদ্ধান্ত মূলত নিরাপত্তার চেয়ে অর্থনৈতিক দিক বিশেষ করে জ্বালানি দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও পরিচালন খরচের ওপর নির্ভর করে।

সে হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বর্তমান বহরের অন্তত ৪ থেকে ৮টি বোয়িং উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে অবসরের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফলে নতুন ১৪টি উড়োজাহাজ পুরোপুরি বর্তমান বহরের সঙ্গে যোগ হয়ে মোট সংখ্যা ৩৩ হবে এমনটি নিশ্চিত নয়। বরং নতুন উড়োজাহাজের একটি অংশ ব্যবহার হবে পুরোনো বহরের পরিবর্তে।

বিশেষ করে পুরোনো বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং ৭৩৭-৮০০-এর জায়গায় নতুন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স যুক্ত হলে বহর যেমন আধুনিক হবে, তেমনি জ্বালানি ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিমানের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যেও সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে সরাসরি ফ্লাইট বাড়ানো গেলে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর বাংলাদেশি যাত্রীদের নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।

বিমানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহন, ট্রানজিট যাত্রী এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সরাসরি আকাশ যোগাযোগও আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনাই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। এসব উড়োজাহাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। লাভজনক রুট নির্বাচন, পর্যাপ্ত যাত্রী নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া নির্ধারণ এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নতুন বহরই ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

অর্থাৎ, প্রশ্নটি শুধু নতুন ১৪টি বোয়িং বহরে যুক্ত হওয়ার নয়; বরং সেই উড়োজাহাজগুলোকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কতটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স