বোয়িং-এয়ারবাস, উড়োজাহাজ কেনায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চায় ইইউ

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৭ ঘন্টা আগে

বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান ইইউ রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের প্রস্তাবও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউভুক্ত ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে চলমান আলোচনা দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশাও জানান তিনি।

সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, কোনো পণ্য বা সেবা কেনার সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। এতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোও অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজগুলো কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বাংলাদেশের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। পরে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বাংলাদেশ আরও বড় পরিসরে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের জন্য এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বহর সম্প্রসারণ এবং পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এয়ারবাসের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বোয়িংয়ের নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ।

তবে এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই আলোচনাকে আবারও সক্রিয় করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

  • এয়ারবাস
  • বিমান-বোয়িং চুক্তি
  • বোয়িং
  • সর্বশেষ