৫ হাজার ৮৪২ কোটি বকেয়া রেখে বিমানের লাভ ৭৮৫ কোটি টাকা!

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ দিন আগে

দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যাত্রী পরিবহনসহ দেশের আকাশপথে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয় ও মুনাফায় সাফল্য দেখালেও সংস্থাটির কাছে জমেছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া। বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ এবং সারচার্জ মিলিয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিমানের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বা বেবিচকের পাওনা প্রায় ৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।

সবশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোট আয় হয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে সংস্থাটির নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আগের ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা ছিল ২৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিমানের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে লাভের এই চিত্রের বিপরীতে বেবিচকের কাছে বিমানের বকেয়া রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।

বেবিচকের অধীনে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিকসহ মোট আটটি বিমানবন্দর রয়েছে। এসব বিমানবন্দরে অ্যারোনটিক্যাল চার্জের মধ্যে রয়েছে ল্যান্ডিং চার্জ, রুট নেভিগেশন সার্ভিস চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার ও এমবারকেশন চার্জ। আর নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জের মধ্যে রয়েছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, চেক-ইন কাউন্টার ভাড়া, কার পার্কিং ও এভিয়েশন ক্যাটারিং সার্ভিস। এসব খাতের বকেয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত সারচার্জ মিলিয়েই বিমানের কাছে বেবিচকের এই বিশাল পাওনা তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দরভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাওনা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে বিমানের কাছে বেবিচকের পাওনা ৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এরপর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৭৮১ কোটি এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬০৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যশোর বিমানবন্দরে ১০ কোটি, কক্সবাজার বিমানবন্দরে ২ কোটি ২৬ লাখ, রাজশাহী বিমানবন্দরে ১ কোটি ৯০ লাখ, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৩৬ লাখ এবং বরিশাল বিমানবন্দরে ৩১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

বিমানের বড় অঙ্কের বকেয়া জমার ইতিহাসও দীর্ঘ। এর আগে ২০০৮ সালে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দেনায় পড়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে বিমান। পরে ১ হাজার ২১৬ কোটি টাকার সারচার্জ মওকুফ করা হয়। বাকি ৫৭৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে সেই দায় থেকে মুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০১৭ সালেও বেবিচক বিমানের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বকেয়া মওকুফ করে।

তবে এবার আর বকেয়া মওকুফের পথে যাচ্ছে না বেবিচক। বরং দীর্ঘদিনের এই বিপুল পাওনা আদায়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাভজনক অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত পাওনা আদায় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা দুটিই এখন বেবিচকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে কার্যক্রম বন্ধ থাকা কয়েকটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কাছেও বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে বেবিচকের। জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে প্রায় ৪১১ কোটি, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কাছে প্রায় ৩৯১ কোটি এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে ৪৫৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়া এবং মূল বিলের সঙ্গে সারচার্জ বা জরিমানা যুক্ত হওয়ায় এসব পাওনা আরও বেড়েছে।

চালু থাকা এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রার কোনো বকেয়া নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে নভোএয়ারের কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে ১৩ কোটি টাকা।

ফলে একদিকে বিমানের আয় ও মুনাফা বাড়ছে, অন্যদিকে বেবিচকের কাছে জমছে হাজার হাজার কোটি টাকার বকেয়া। এখন এই বিপুল অর্থ কত দ্রুত আদায় করা যায় এবং বিমান ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এসব চার্জ পরিশোধ করতে পারে কি না সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স