বিমানের উড়োজাহাজ কেনা ঘিরে বোয়িং-এয়ারবাসের তীব্র প্রতিযোগিতা

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ দিন আগে

রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বখ্যাত দুই উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং এবং এয়ারবাস এর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে উভয় কোম্পানিই কৌশলগত প্রস্তাব নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের উড়োজাহাজ সংখ্যা মাত্র ১৪টি হলেও, যাত্রী চাহিদা পূরণে প্রয়োজন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বহর আধুনিকায়নের বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক এই দুই নির্মাতার মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিমানের বহরে একক আধিপত্য ধরে রেখেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং। তবে এই আধিপত্য ভাঙতে সম্প্রতি এয়ারবাস একটি কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘ড্রাই লিজিং’-এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এয়ারবাসের এই প্রস্তাবের পরপরই বাজার ধরে রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে বোয়িং। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বোয়িং একদিকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ বিক্রির মেগা চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন লিজ বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এয়ারবাস লিজিং সুবিধার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাজারে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল নিয়েছে। বিপরীতে বোয়িং সরাসরি বিক্রয় ও লিজ উভয় ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়।

সব মিলিয়ে, বিমানের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঘিরে বোয়িং ও এয়ারবাসের এই প্রতিযোগিতা দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করছে সরকারের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক বিবেচনার ওপর।

  • এয়ারবাস
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
  • বোয়িং