নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাইয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীতে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৫ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ ১ ডিসেম্বর (সোমবার) সকালে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিএও স্ট্যানডার্ডস অ্যান্ড রিকমন্ডেড প্রাকটিস (এসএআরপি) এবং ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (এনসিএএসপি) এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই (০২) বছরের মধ্যে একবার এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ আয়োজন করার কথা বলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় যশোর বিমানবন্দর থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইট গলফ ফক্সট্রট আলফা ওয়ান টু থ্রি দুই জন যাত্রী নিয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। শাহ মখদুম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে এবং জানানো হয় যে যশোর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা চার্টার্ড ফ্লাইটটিতে একটি বোমা রাখা আছে এবং যেকোনো সময়ে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। কন্ট্রোল টাওয়ার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক ও সিকিউরিটি অফিসারকে জানালে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক রিস্ক এডভাইজরি গ্রুপ (আরএজি) কমিটির সাথে আলোচনা করে ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ইমারজেন্সি অপারেশন সিস্টেম অ্যাক্টিভ করার নির্দেশ দেন। পরে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইমারজেন্সি রিসপন্স সিস্টেম পরিচালনা করেন।
এসময় মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন বেবিচক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র্যাব, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ইসলামী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল। উক্ত অনুষ্ঠানের অনসীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোসাঃ দিলারা পারভীন।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরে আয়োজিত “এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৫”-এ প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সকল অংশীজনকে মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গত ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের সময় এভসেক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো বিমানবন্দরের আমদানী ও রপ্তানী কার্গো, টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, টার্মিনাল ৩ ও অগ্নিকাণ্ডের আশেপাশের স্থানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। এছাড়াও আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীসমূহ প্রধান সড়কে মোতায়েন করা হয় যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসমূহ যেন বিনা বাধায় অগ্নিনির্বাপণে যোগ দিতে পারে। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সময় নানা ধরনের চুরি, লুট বা নাশকতার সমূহ সম্ভাবনা থাকে তবে নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং কর্মদক্ষতার ফলে সেদিন এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থার প্রস্তুতি ও দক্ষতা প্রত্যক্ষ করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, প্রতিটি সংস্থা প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি জাতীয় স্বার্থে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান ও সদস্য (অর্থ) মোহাম্মাদ নাজমুল হক এবং বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।
