বগুড়া বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন পর আবারও গতি পাচ্ছে। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বিমানবন্দরটি সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, বিমানবন্দরটিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং মন্ত্রীদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নে, শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর এই বিমানবন্দরটি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি মূলত স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়নযোগ্য বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে ৪,৭০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে, যা সম্প্রসারণ করে ৬,০০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে, যাতে ATR-72 ধরনের যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সম্ভব হয়। অবকাঠামোর মধ্যে একটি চারতলা টার্মিনাল ভবন, দোতলা ফায়ার স্টেশন ও পাওয়ার হাউস থাকলেও রানওয়ে লাইটিং না থাকায় রাতে বিমান ওঠানামা সম্ভব নয়। ২০০৬ সাল থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানবন্দরটিকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ একর জমিতে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে ১০ হাজার ফুটে সম্প্রসারিত হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং এর জন্য প্রায় ৯০০ একর জমির প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে প্রায় ৭০০ একর নতুন করে অধিগ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে এখানে একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বেবিচক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান করছে। কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মহাপরিকল্পনা, পেভমেন্ট নকশা ও আধুনিক টার্মিনাল ডিজাইনের কাজ করবে।
তবে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ব্যাপক জমি অধিগ্রহণ। এতে বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় প্রতিরোধের কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মধ্যেও প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়াসহ জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানি, নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকা থেকে আকাশপথে যাতায়াতের সময় কমে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে নেমে আসতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি নানা কারণে দীর্ঘদিন আটকে ছিল, তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও মন্ত্রীদের পরিদর্শনকে এর বাস্তব অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
