ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীচাপ দিন দিন বাড়ছেই। ২০২৫ সালে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন রেকর্ড ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রী, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ বেশি।
২০২৪ সালে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছিলেন ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ যাত্রী। অথচ বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা মাত্র ৮০ লাখ। ফলে সক্ষমতার অনেক বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। বর্তমানে নির্ধারিত সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে এই বিমানবন্দরকে।
এই অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই যাত্রীসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে লাগেজ ডেলিভারিতে দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই ৯২ শতাংশ লাগেজ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এছাড়াও চেক-ইন কাউন্টার ও ইমিগ্রেশন অংশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি উড়োজাহাজ চলাচলেও চাপ বাড়ছে। একটি মাত্র রানওয়ে দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করায় টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের জন্য উড়োজাহাজগুলোকে কিউয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনায় বিলম্ব সৃষ্টি করছে।
এই সংকট নিরসনে থার্ড টার্মিনালকে বড় সমাধান হিসেবে দেখা হলেও সেখানেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অপারেটর নিয়োগে ব্যর্থতার কারণে নতুন এই টার্মিনালটি এখনো চালু করতে পারছে না বেবিচক। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তারা এই টার্মিনাল চালু করতে পারছে না এবং বিষয়টি নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
থার্ড টার্মিনালটি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক পরিচালনক্ষমতা বেড়ে ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত হবে। এতে দেশের আকাশপথে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তিও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
