হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ছয় মাসে বিভিন্ন অপরাধে ১৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১ হাজার ৩৪ জনকে মোট ৬১ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব দণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান তার ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানান।
পোস্টে বলা হয়, যাত্রীদের অধিকার রক্ষা, বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করতে এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ হাজার ৩৪ জনের কাছ থেকে ৬১ লাখ ৫২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের অন্যতম অভিযোগ লাগেজ থেকে মালামাল চুরি। এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি। এতে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি করেছে—এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভুলে ফেলে যাওয়া একটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করার ঘটনায় একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিমানবন্দরের বিভিন্ন কর্মী যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ফোন, টাকা, অলংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এ ধরনের দুই শতাধিক মূল্যবান সামগ্রী যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়।
লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় শতভাগ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, লাগেজ বিমান থেকে নামানো বা বিমানে তোলার সময় একসঙ্গে তিনজন কর্মী বডি ক্যামেরা ব্যবহার করেন। তাদের ক্যামেরা কাজ চলাকালে সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হয় এবং কাজ শেষে কন্ট্রোল রুমে জমা দিতে হয়।
কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এসব ক্যামেরার ফুটেজ সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোড হয় এবং তা ৯০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি ফুটেজ বাংলাদেশ বিমানে ডেপুটেশনে কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজরের দায়িত্বে থাকে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব স্থানে যাত্রীদের লাগেজ মানুষের সংস্পর্শে আসে, সেসব স্থানও সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর লাগেজ থেকে চুরি করা এখন অত্যন্ত কঠিন এবং এ ধরনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা তল্লাশির সময় নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী পেলে তা জব্দ করে লাগেজটি তালা ভাঙা অবস্থায় পাঠিয়ে দিতে পারে। তবে এ ধরনের তল্লাশি ও তালা ভাঙার বিষয়টি লিখিতভাবে যাত্রীদের জানানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সব এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
লাগেজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথাও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশে আসার পর লাগেজ চুরি করা এখন অত্যন্ত দুরূহ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিমানবন্দরের প্রতি যাত্রীদের আস্থা বাড়াতে এবং বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান নওশাদ খান। বাংলাদেশে আসার পর কোনো লাগেজ থেকে চুরির ঘটনা সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা বা অন্য কোনো উপায়ে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরে কোনো অভিযোগ বা মতামত জানাতে যাত্রীরা ১৩৬০০ নম্বরে এয়ারপোর্ট হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।
