৮ বিমানবন্দর চালুর মহাপরিকল্পনা,কোনটির কাজ কতদূর?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের আটটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি থাকা এই প্রকল্পগুলোকে নতুন করে গতি দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। ২০৩০ সালের ভিশন সামনে রেখে ধাপে ধাপে বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘোষণার পরও বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে মূলত একটি প্রকল্পেই বগুড়া বিমানবন্দরে।

সরকারের পরিকল্পনায় বগুড়া বিমানবন্দরকে শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৪০০ থেকে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই ধাপে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট করা হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ করছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শুরু হতে পারে।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার পাওয়া পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তেজস্ক্রিয় উপাদান নিরাপদে আকাশপথে পরিবহনের লক্ষ্যে বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এই বিমানবন্দরের প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়েকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৫০০ ফুট করার পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও রানওয়ে সেফটি এরিয়া উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।

বগুড়া ও ঈশ্বরদী ছাড়াও চালুর তালিকায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালীর স্টলপোর্ট। এসব বিমানবন্দর ঘিরে বিভিন্ন পরিকল্পনা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্রগতি সীমাবদ্ধ রয়েছে সমীক্ষা, নকশা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের প্রায় ৬ হাজার ফুট রানওয়ে ও ৫৫০ একর জমিকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাট বিমানবন্দরে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাঙ্গার ও ট্যাক্সিওয়ের মতো অবকাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।

কুমিল্লা বিমানবন্দরের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফুট রানওয়ে বর্তমানে যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ব্যবহৃত না হলেও বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজকে নেভিগেশন সেবা দিয়ে রাজস্ব আয় করছে। তবে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চালুর উদ্যোগ এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। একই অবস্থা শমশেরনগর বিমানবন্দরেরও। বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৫ হাজার ফুট রানওয়ে ও ৬২২ একর জমির এই বিমানবন্দরও এখনো বাস্তব উন্নয়নকাজের অপেক্ষায়।

অন্যদিকে দেশের ব্লু-ইকোনমি ও দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালীর স্টলপোর্টকে। রামপালে প্রায় ৫৩৬ একর জমিতে নির্মাণাধীন অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটার কাছাকাছি স্টলপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখানেও এখনও দৃশ্যমান কোনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।

ফলে সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে মূলত বগুড়া বিমানবন্দরেই। বাকি সাতটি প্রকল্প এখনও আটকে আছে সমীক্ষা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপে।

এদিকে, এসব বিমানবন্দর ঘিরে পড়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। সরকার বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই অবকাঠামো কাজে লাগানো হবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধানই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখন নজর থাকবে এই মহাপরিকল্পনা সত্যিই রানওয়েতে গড়ায়, নাকি আগের মতোই কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

  • ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
  • কুমিল্লা বিমানবন্দর
  • বগুড়া বিমানবন্দর
  • লালমনিরহাট বিমানবন্দর