এমআরও শিল্পের কেন্দ্র হচ্ছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৫৭ minutes ago

লালমনিরহাটে এমআরও হাব গড়তে বোয়িং-এয়ারবাসের সঙ্গে সরকারের আলোচনা

দেশের এভিয়েশন শিল্পের নতুন কেন্দ্র হিসেবে লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরটিকে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বোয়িং, এয়ারবাস ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে পিআইবি ও বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা) আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটে এমআরও শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আশা রয়েছে।

তার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বিমান রক্ষণাবেক্ষণের অবকাঠামোই তৈরি হবে না, বরং এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগও বাড়বে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নতুন ফ্লাইং একাডেমির পরিকল্পনা

দেশে পাইলটের ঘাটতি পূরণে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

বিমানবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি এভিয়েশন একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে পাইলটসহ এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চাকরি পাওয়ার পর তারা পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করবেন।

মন্ত্রী আশা করেন, এ উদ্যোগের ফলে দেশের পাইলট সংকট কমার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের নেওয়া এই প্রকল্পের কাজের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক নয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালুর জন্য সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তৃতীয় টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান টার্মিনালের সক্ষমতা সীমিত। ফলে ভবিষ্যতের যাত্রী ও বিমান চলাচলের চাপ সামাল দিতে নতুন টার্মিনালের প্রয়োজন রয়েছে।

গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আফরোজা খানম রিতা বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি এভিয়েশন খাতের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও সংবাদে তুলে ধরা উচিত।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় এভিয়েশন খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং এ খাত নিয়ে সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

  • এভিয়েশন খাত
  • বিমানবন্দর
  • লালমনিরহাট বিমানবন্দর
  • সর্বশেষ