সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে বাংলাদেশে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনায় উৎসাহিত করবে।
তবে বিষয়টির অন্য দিকও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের বিমানবন্দরগুলো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করে আসছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাস্তবতা তৈরি হবে।
প্রশ্ন হলো, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কি পর্যাপ্ত সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে? যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি পুরো কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ পায়, তাহলে দেশীয় দক্ষ জনবল ও প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা লাভবান হবে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় নিরাপত্তা। বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশন একটি সংবেদনশীল খাত। এখানে যাত্রী তথ্য, কার্গো নিরাপত্তা এবং বিমান পরিচালনার নানা গোপনীয় তথ্য জড়িত থাকে। তাই বিদেশি অংশীদার নির্বাচন করতে হলে শুধু আর্থিক প্রস্তাব নয়, নিরাপত্তা সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর মডেল হতে পারে যৌথ উদ্যোগ। এতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা যেমন কাজে লাগবে, তেমনি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে।
বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের মডেল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষা পায়, দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়।
তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে যে আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আসলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রতিফলন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অন্যান্য মেগা প্রকল্পের মতোই এটি দেশের আধুনিকায়নের প্রতীক।
এক সময় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশকে শুধু যাত্রী পরিবহনের উৎস হিসেবে দেখত। এখন তারা বাংলাদেশকে একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে। এই পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় অর্জন।
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে দেশের এভিয়েশন খাত এখন বৈশ্বিক মানচিত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, প্রয়োজন দূরদর্শিতা।
বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ-সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে হবে। কারণ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কেবল একটি ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এভিয়েশন কৌশলের ভিত্তি।
আজ বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ঢাকার আকাশপথের সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করতে চায়, তখন সেটি নিছক একটি ‘মধুর সমস্যা’ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল সুযোগ-যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত হতে পারে।
লেখকঃ মো. কামরুল ইসলাম : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকা পোস্ট



