হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর শর্তসাপেক্ষে দুই বছরের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও, সেবার মান নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে যুক্তরাজ্যের আগ্রহ পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় মেগাপ্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এই টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কে পরিচালনা করবে, তা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছিল।
দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর সরকার পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দেয়। তবে বিমানের অতীত সেবার মান নিয়ে যাত্রী ও এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে লাগেজ কাটা, মালামাল হারানো এবং যাত্রী হয়রানির মতো অভিযোগ বারবার সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বিকল্প গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। যুক্তরাজ্য তাদের প্রযুক্তি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে থার্ড টার্মিনালের সেবার মান উন্নত করতে চায় বলে জানিয়েছে হাইকমিশনার।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সরিয়ে দেওয়া বা তাদের ভূমিকা কমিয়ে আনা সরকারের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংস্থাটি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট কিনেছে। ফলে বিদেশি সংস্থা যুক্ত হলে এই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করার চাপ, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিনিয়োগ ও সক্ষমতা এই দুই দিক বিবেচনা করে সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দায়িত্ব দেশীয় সংস্থা বিমানের হাতেই থাকবে, নাকি আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হবে তা নিয়েই এখন এভিয়েশন খাতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
