কাতার-এমিরেটসকে চ্যালেঞ্জে নেমেছে বিমান-ইউএস বাংলা!

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আধিপত্য। দেশের যাত্রীদের একটি বড় অংশ বহন করে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স কিংবা ইতিহাদের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তবে সেই চিত্র বদলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের নিজস্ব এয়ারলাইন্সগুলো। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই শুরু হয়েছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার সম্মিলিত বহরে রয়েছে ৫১টি উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯১টিতে। অর্থাৎ মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪০টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশের আকাশপথে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সম্প্রসারণ শুধু বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়; বরং দেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে বিদেশি এয়ারলাইন্সের নির্ভরতা কমিয়ে আনার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবহন করে বিদেশি এয়ারলাইন্স। বিপরীতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলাসহ দেশীয় অপারেটরদের সম্মিলিত অংশীদারিত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে এই ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল প্রতি বছরই বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় নির্মিত হয়েছে থার্ড টার্মিনাল, যা চালু হলে বছরে আরও প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে। আর এই নতুন বাজারের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিতে চায় দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি লিজের মাধ্যমে বহরে যুক্ত করা হবে আরও কয়েকটি আধুনিক বিমান। নতুন বহরের মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং সম্ভাব্য উত্তর আমেরিকার রুটে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।

অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একাধিক নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

পিছিয়ে নেই অন্য অপারেটররাও। এয়ার অ্যাস্ট্রা অভ্যন্তরীণ রুটের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইভাবে নভোএয়ারও নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ সংগ্রহের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে। ফলে দীর্ঘদিন পর দেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতে আবারও বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের নতুন গতি তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় বড় লিজিং কোম্পানিগুলোর আগ্রহও এখন বাংলাদেশের দিকে। কারণ, দেশের এভিয়েশন খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা ও বাজারের সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক। পাশাপাশি দ্রুত বাড়তে থাকা প্রবাসী, পর্যটন ও কার্গো বাজারও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কাতার এয়ারওয়েজ বা এমিরেটসের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে শুধু নতুন উড়োজাহাজই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী ট্রানজিট নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা।

তবুও একটি বিষয় এখন স্পষ্ট বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে দেশের আকাশে উড়বে আরও বেশি বাংলাদেশি উড়োজাহাজ। আর সেই সঙ্গে শুরু হবে একটি নতুন প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য, বাংলাদেশের বাজারের জন্য, এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর জন্য।

  • ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স