এয়ার অ্যাস্ট্রার দুই বছর; চোখ কাঠমান্ডু, কলকাতায়

লেখক: চেক ইন নিউজরুম
প্রকাশ: ১ বছর আগে

২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর যাত্রা শুরু করেছিলো বেসরকারি বিমানসংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা। সাফল্যের সাথে দুই বছর পূরণ করলো এয়ারলাইন্সটি। এরই মধ্যে জুটে গেছে দেশের সেরা ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের তকমা। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ মুখোমুখি হয়েছেন চেক ইনের।

চেই ইন: সাফল্যের সাথেই তো দেশের আকাশপথে এয়ার অ্যাস্ট্রা দুই বছর পার করলো। কেমন ছিলো এই দুই বছর? আর তৃতীয় বছরের জন্য কি কি পরিকল্পনা আছে?

ইমরান আসিফ: এয়ার অ্যাস্ট্রা ২০২২ সালের নভেম্বরে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করে দুটো এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে। অপারেশন শুরুর মাস চারেক পরে আমাদের বহরে তৃতীয় উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এই সময়ে আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর ও সিলেটে ফ্লাইট অপারেশন করেছি। আগামী সপ্তাহেই আমাদের বহরে আরও একটি এয়ারক্রাফট যুক্ত হতে যাচ্ছে। তৃতীয় বছরের শুরুতেই আমাদের পরিকল্পনা হলো অভ্যন্তরীণ রুটে আরও শক্ত অবস্থা তৈরি করা। আমাদের ঢাকা-কক্সবাজারে ফ্লাইট ৫ টা থেকে ৭ টায় উন্নীত হবে। ঢাকা-সৈয়দপুর ফ্লাইট ৩ টা থেকে ৪ টা হবে।

চেই ইন: মাত্র দুই বছরেই এয়ার অ্যাস্ট্রার সেরা ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের তকমা জুটেছে। যাত্রীরাও বেশ পছন্দ করছে। এই সফলতার পেছনের গল্প জানতে চাই।

ইমরান আসিফ: দেখুন আমাদের তো দেশটা ছোট। আমরা যারা অপারেটর আছি তারা একই রকম এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছি। সেখানে আলাদা হওয়াটা বেশ কঠিন কাজ। তবে আমরা শুরু থেকে দুটো জায়গা নিয়ে সচেতন ছিলাম। একটি হলো গ্রাউন্ডের যাত্রীসেবা আরেকটি হলো ইনফ্লাইট যাত্রীসেবা। এর জন্য আমরা আমাদের গ্রাউন্ড স্টাফ ও ক্রুদের ধারাবাহিক ট্রেনিংয়ের মধ্যে রেখেছি যেন যাত্রীদের সর্বোত্তম সেবাটা নিশ্চিত করা যায়। সেখানেই হয়তো আমাদের সফলতা। যাত্রীসেবার মানই অন্য এয়ারলাইন্স থেকে আমাদের আলাদা করেছে। দেশের নবীন এয়ারলাইন্স হিসেবে গত আগস্টে আমরা আয়োজা’র সার্টিফিকেট পেয়েছি। দুই বছরের কম সময়ে কোন এয়ারলাইন্স আয়োজা’র সার্টিফিকেট পেয়েছি বলে আমি কোথাও খুঁজে পাইনি। এতা কম সময়ে আয়োজা’র সার্টিফিকেট পাওয়া আমরাই বিশ্বের প্রথম এয়ারলাইন্স। এটাই প্রমাণ করে অমরা সেফটিকে কতোটা গুরুত্ব দেই।

চেক ইন: বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রুটে সফলতার সাথে এক বছর পার হলেই একটি এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালানোর যোগ্যতা অর্জন করে। সেখানে আপনার দু’বছর পার করলেন। আন্তর্জাতিক রুটে কবে যাচ্ছেন?

ইমরান আসিফ: আমাদের পরিকল্পনা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার। আমাদের পরিকল্পনা আরও আগেই ছিলো। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি ও উড়োজাহাজ না পাওয়ায় সেটা কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আমরা আশা করছি আগামী বছরের শুরুতেই আমরা আন্তর্জাতিক রুট শুরু করতে পারবো।

চেক ইন: আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় কোন কোন রুটে নজর রাখছেন?

ইমরান আসিফ: আমাদের পরিকল্পনায় কাঠমান্ডু ও কলকাতা আছে। যেহেতু ভারতে ভিসা জটিলতায় যাত্রী সংকট চলছে। তাই আমরা আপাতত কাঠমান্ডুকেই ফোকাস করছি। আশা করছি কাঠমান্ডু দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক অপারেশন শুরু করতে পারবো।

চেক ইন: দুই বছর উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য কি অফার দিচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা?

ইমরান আসিফ: দুই বছর উপলক্ষে আমরা যাত্রীদের একটা ইউনিক অফার দিচ্ছি। আমরা ২০ হাজার টিকিট দিচ্ছি বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফারে। এই অফারে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি চার মাস ভ্রমণ করা যাবে। তবে সেজন্য একসাথে দুটো টিকিট কাটতে হবে। এই অফারটি দু’বছর উপলক্ষে আমাদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য কৃতজ্ঞতা।