ঈদে আকাশপথে চাপ কম, বিমান ছাড়া অন্যদের বাড়তি ফ্লাইট নেই
এবারের ঈদে আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এয়ারলাইন্সগুলো এবার অতিরিক্ত যাত্রী সামলাতে হিমশিম খাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে না। ফলে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো এখনো বাড়তি ফ্লাইটের ঘোষণা দেয়নি। শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি রুটে ১৩টি বাড়তি ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আকাশপথে যাত্রী কমার অন্যতম কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। আট লেনের রাস্তার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা এবার সড়কপথে যাচ্ছেন, যার প্রভাব আকাশপথে পড়েছে। পাশাপাশি নৌপথেও যাত্রীসংখ্যা বাড়ার কারণে আকাশপথে চাপ কমেছে।
প্রতি বছর ঈদের আগে আকাশপথের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সেই প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। ২৫ মার্চ থেকে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীচাপ আশা করেছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। ফলে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোও এখনো বাড়তি ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা দেয়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম জানান, ২৫ মার্চ থেকে বিমানের ঈদকালীন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়েছে, যা ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে। উত্তরের জেলা রাজশাহী ও সৈয়দপুর রুটে ছয়টি করে ১২টি এবং বরিশাল রুটে একটি বাড়তি ফ্লাইট চালানো হবে। সাধারণত রাজশাহী রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালু থাকে, কিন্তু এবার প্রতিদিন দুটি করে বাড়তি ফ্লাইট চালানো হচ্ছে, যা ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। বরিশাল রুটে তিনটি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও একটি যুক্ত করা হয়েছে এবং সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন একটি বাড়তি ফ্লাইট চালানো হচ্ছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “এবার আমাদের কোনো বাড়তি ফ্লাইট নেই। তবে রাজশাহী, সৈয়দপুর ও যশোর রুটে কিছুটা চাপ রয়েছে। এছাড়া ঈদের পরে কক্সবাজার রুটে পর্যটকদের কারণে কিছুটা চাপ দেখা যেতে পারে।” অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদে ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা কমেছে। সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল রুটে যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
এবার শুধু অভ্যন্তরীণ রুট নয়, আন্তর্জাতিক রুটেও যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। ভারতীয় ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ভারতগামী যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। পাশাপাশি দুবাই, কাতার ও থাইল্যান্ডগামী যাত্রীসংখ্যাতেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের মধ্যে ঈদের পর দেশে ফেরার প্রবণতা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির পর বিশেষ করে কক্সবাজার রুটে পর্যটকদের চাপ বাড়তে পারে। ফলে ঈদের দিন থেকে তিনদিন পর্যন্ত কক্সবাজারগামী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এবারের ঈদে আকাশপথে যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় এয়ারলাইন্সগুলো অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক সময় পার করছে।
