ঢাকার আকাশ বিদেশি বিমানের দখলে, কবে আসবে বাংলাদেশের হাতে?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের আকার দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে যাত্রী, ফ্লাইট ও আন্তর্জাতিক রুট। দেশের অর্থনীতি, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী যোগাযোগের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত এই খাতের বড় অংশই এখন বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর নিয়ন্ত্রণে। ফলে দেশের আকাশপথে যাত্রী বাড়লেও সেই বাজারের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিতে পারছে না দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো।

বর্তমানে বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের আকার প্রায় ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। এই বাজারের প্রায় ৭৭ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। বিপরীতে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর অংশ প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার বাজারে দেশীয় ক্যারিয়ারগুলোর অংশ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা, আর প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ৫ হাজার ৬৯০ জন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৫ জন। তবে এই বাড়তি যাত্রী চাহিদার অর্থনৈতিক সুবিধা দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো কতটা কাজে লাগাতে পারছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথের কাছাকাছি অবস্থান করায় ঢাকাকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু ভৌগোলিক অবস্থান কোনো বিমানবন্দরকে কার্যকর আন্তর্জাতিক হাবে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

একটি শক্তিশালী এভিয়েশন হাবের জন্য প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, দ্রুত ইমিগ্রেশন ও ট্রানজিট সুবিধা, প্রতিযোগিতামূলক বিমানভাড়া এবং বিস্তৃত আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক। এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ট্রানজিট যাত্রী। বর্তমানে ঢাকার মোট বিমান চলাচলে ট্রানজিট যাত্রীর অংশ ৫ শতাংশেরও কম। ফলে আঞ্চলিক হাব হিসেবে ঢাকার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ট্রানজিট যাত্রী বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বাস্তবতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আধুনিক টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুট ও এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর বহর সম্প্রসারণও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে শুধু অবকাঠামো বা উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ালেই আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় এয়ারলাইন্সের অংশ বাড়বে না। প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া, উন্নত যাত্রীসেবা, সময়ানুবর্তিতা, নতুন আন্তর্জাতিক রুট এবং শক্তিশালী ট্রানজিট নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রী বাজার যখন ক্রমেই বড় হচ্ছে, তখন সেই বাজারের কতটা দেশীয় এয়ারলাইন্স নিজেদের দখলে নিতে পারে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ দেশের আকাশপথে যাত্রী ও ফ্লাইট বাড়ার পাশাপাশি এই খাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সুবিধার বড় অংশ বাংলাদেশে ধরে রাখাই হবে আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর