চালু হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আক্ষেপের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৪৬ বছরের পরিত্যক্ত দশা কাটিয়ে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। কেবল অভ্যন্তরীণ যোগাযোগই নয়, সরকার এই বিমানবন্দরটিকে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগের এক অত্যাধুনিক ‘আন্তর্জাতিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

​১৯৪০ সালে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৫৫০ একর সুবিশাল জমিতে নির্মিত হয়েছিল এই বিমানবন্দরটি। তবে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় এর রানওয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে সংস্কারের মাধ্যমে এখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত যাত্রীর অভাব ও ক্রমাগত লোকসানের কারণে ১৯৮০ সালে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে দীর্ঘ ৪৬ বছর। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে দেশের আটটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের নাম নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

​বেবিচকের সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিকে বিশ্বমানে উন্নীত করার একটি বিশদ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়নে আনুমানিক ৯,৮৭১ কোটি টাকা ব্যয় এবং কমপক্ষে চার বছর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইকাও মানদণ্ড মেনে বর্তমান জরাজীর্ণ ৬ হাজার ফুটের রানওয়েকে বিশাল পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম, কার্গো টার্মিনাল, ফায়ার স্টেশন, কন্ট্রোল টাওয়ার এবং প্রশস্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ যাত্রী হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন থাকবে।

​বর্তমানে এই বিমানবন্দরের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১,১৫৯ একর। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এর একটি বড় অংশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং প্রকল্প কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তুলতে বিদ্যমান জমির বাইরেও নতুন করে আরও প্রায় ৮৫৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণই হবে প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

​ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তঘেঁষা এই বিমানবন্দরটি চালু হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সরাসরি এবং সাশ্রয়ী আকাশপথের সূচনা হবে। এতে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি হবে।

​তবে বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে এত বিশাল অংকের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সরকারি বাজেট সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা বৈদেশিক ঋণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর