দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কার্যালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
বিটিবি সিইও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পর্যটন মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আশা করছি, এ বছরই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে।”
দেশের পর্যটন খাতের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। বিটিবির অধীনে ২০১৯ সালে একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের কারণে এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে ফারুকী বলেন, বিটিবির হাতে এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নত করা হবে।
বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
ফারুকী বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করা যায়।”
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বিটিবি।
মতবিনিময় সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ারসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
