হঠাৎ কেন ঢাকায় নজর বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সগুলোর?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের আকাশপথে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ঢাকায় ফ্লাইট চালু করেছে বা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এয়ার চায়না, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স ও ইজিপ্টএয়ারের পর সৌদি আরবের নতুন প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ারও বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রহের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজার। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রত্যাশী যাত্রীদের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে সারা বছরই স্থিতিশীল যাত্রীচাহিদা বজায় থাকে। ফলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য ঢাকা একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতিও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য আকাশপথে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের বেলি-হোল্ড কার্গো ব্যবহারের মাধ্যমে এই পণ্য পরিবহন বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্যও লাভজনক ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই সম্ভাবনা আরও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, লাগেজ সরবরাহ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যে অভিযোগ ছিল, আধুনিক অবকাঠামো চালুর মাধ্যমে তার অনেকটাই দূর হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো, দ্রুত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

এদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা প্রবাসী আয়, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা এবং রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেলে যাত্রীরা আরও বেশি গন্তব্য, উন্নত সেবা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ার সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও গতিশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ এখন আর শুধু একটি উদীয়মান বাজার নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারগুলোর অন্যতম। এই সম্ভাবনাকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন দেশের এভিয়েশন খাতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • বিদেশি এয়ারলাইন্স