কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চললেও বিদেশি এয়ারলাইন্সের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহরকে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দেয়নি।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে উঠলে বিদেশি পর্যটকরা ভবিষ্যতে ট্রানজিট ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়।
তবে এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক আগ্রহ, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, পর্যাপ্ত যাত্রীচাহিদা এবং কার্যকর রুট পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রী চলাচল মূলত দেশীয় এয়ারলাইন্স ও অভ্যন্তরীণ রুটনির্ভর। বিদেশি এয়ারলাইন্সের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইন্স আকৃষ্ট করতে পর্যটন সম্ভাবনার কার্যকর প্রচার, আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক বিমানবন্দর চার্জ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পথ আরও সহজ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিকীকরণ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় নয়; এর সফলতা নির্ভর করবে নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের অংশগ্রহণের ওপর। তাই অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
