অভ্যন্তরীণ রুটে কার্যক্রম পরিচালনার পর এবার আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১২টি দেশের ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। এ জন্য এয়ারবাস এ-৩২০ ও এয়ারবাস এ-৩২১ মডেলের ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে এসব উড়োজাহাজে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সুবিধা রাখার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
এয়ার অ্যাস্ট্রা জানায়, আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিং, হলিডে প্যাকেজ এবং বিভিন্ন স্টেশনে চেক-ইন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ চলছে। যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে দ্রুত, আরামদায়ক ও আধুনিক করে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটেও সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বহরে তিনটি এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ছয়টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এয়ার অ্যাস্ট্রা।
বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে এবং যাত্রীরা আরও বেশি ভ্রমণ সুবিধা পাবেন বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথের যোগাযোগ আরও সহজ ও যাত্রীবান্ধব হবে বলে মনে করছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
ফ্লাইট নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। প্রতিষ্ঠানটি আয়াটা অপারেশনাল সেফটি অডিট বা আইওএসএ নিবন্ধিত দেশের কম বয়সী এয়ারলাইন্সগুলোর একটি হিসেবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অর্জন করেছে। এই মানদণ্ড বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক এয়ারলাইন্স অনুসরণ করে থাকে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এয়ার অ্যাস্ট্রা ইতোমধ্যে সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার আস্থা অর্জন করেছে।
এয়ার অ্যাস্ট্রা জানায়, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও যাত্রীবান্ধব এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য। শুধু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে সাশ্রয়ী, আরামদায়ক ও বিশ্বমানের করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
