চিকিৎসাসহ নানাবিধ সেবা নেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রিক গন্তব্য থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, চীনের ব্যবসায়িক গন্তব্য গুয়াংজুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট চালু অব্যাহত রেখেছে। এয়ারলাইন্স ব্যবসায় রুট এবং এয়ারক্রাফট পছন্দের ব্যাপারে সৌখিনতার কোনো সুযোগ নেই।
একটি এয়ারলাইন্স টিকে থাকতে হলে সেবা এবং ব্যবসাকেই প্রাধান্য দিতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। রুট, এয়ারক্রাফট, মার্কেটিং স্ট্রাটেজি যদি ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে না করা হয় তবে এয়ারলাইন্স-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। ভুল পরিকল্পনা এভিয়েশন ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইউএস-বাংলা আন্তর্জাতিক রুট ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সেক্টরে বরিশাল ব্যতীত সব অপারেশনাল এয়ারপোর্টে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ২০২৬ ঢাকা থেকে মদিনা, দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা। ২০২৬ এর শেষ কিংবা ২০২৭-এর শুরুতে ঢাকা থেকে ইউরোপের গন্তব্য লন্ডন, রোম-এ এবং ২০২৮-এর মধ্যে টরেন্টো, নিউইয়র্কসহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইউএস-বাংলা।
এয়ারক্রাফটের সংখ্যার বিচারে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের সর্ববৃহৎ এয়ারলাইন্স। চলতি বছর অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য একের অধিক এটিআর-৭২-৬০০, কমপক্ষে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় কোনো একটি মডেলের ওপর ভিত্তি করে এয়ারলাইন্স ব্যবসা পরিচালনা করা ঠিক নয় বলেই ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ মনে করে। গন্তব্যের দূরত্ব, লাগেজ বহনের পর্যাপ্ততা, পরিচালন ব্যয়, জেট ফুয়েলের ধারণক্ষমতা, এয়ারক্রাফট প্রাপ্তি ইত্যাদি নানাবিধ ফ্যাক্টর এর উপর ভিত্তি করে একটি এয়ারলাইন্স বিভিন্ন মডেলের এয়ারক্রাফট সংগ্রহ করে থাকে।
এইসব ফ্যাক্টর-এর ওপর ভিত্তি করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এটিআর ৭২-৬০০, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ কিংবা এয়ারবাস ৩০০-৩৩০ এয়ারক্রাফট এর মতো মিক্সিং মডেল স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট এবং এ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২১ জন পাইলট ক্যাডেট পাইলট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আরও ১২ জন ট্রেনিং শেষ করে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। নতুন আরও একটি ব্যাচ রিক্রুটমেন্ট প্রসিডিউরের মধ্যে আছে। ঠিক একই প্রক্রিয়ায় এ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও ইউএস-বাংলায় নিয়োগ পাচ্ছে।
একটি এয়ারলাইন্স বিভিন্ন রুটে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয়ের দিকে নজর রাখে। সাথে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় চাহিদা জোগানের বিষয়টির প্রতিও খেয়াল রাখতে হয়। পিক-সিজন কিংবা অফ-পিক সিজন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরে ভাড়া নির্ধারণে বিরাট ভূমিকা রাখে।
সারা বিশ্বের সব এয়ারলাইন্সের সব রুটেই ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে একই পলিসি মেনে চলে। প্রত্যেকটি রুটে ১০ থেকে ১১টি ভাড়ার স্তর থাকে। স্টারটিং ফেয়ার কিংবা প্রমোশনাল ফেয়ার থেকে সর্বোচ্চ ফেয়ার। সর্বোপরি সিটের পর্যাপ্ততার ওপর ভাড়ার তারতম্য ঘটে থাকে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট কোনো ঘটনা বা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এয়ারলাইন্সগুলো ভাড়া বাড়ায় না। সারা বছর একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে। অপারেশনাল খরচ কমানো গেলে ভাড়া কমানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্স ইচ্ছামাফিক ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের টিকেট বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়। যেমন অ্যাপের মাধ্যমে, অনলাইন, নিজস্ব সেলস কাউন্টার কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট কাটা যায়। শুরু থেকেই সিন্ডিকেট প্রথার বিরুদ্ধে ইউএস-বাংলার অবস্থান। অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্স, এ্যরোনোটিক্যাল চার্জ, নন-এ্যারোনোটিক্যাল চার্জ কিংবা জেট ফুয়েলের অতিরিক্ত মূল্য ভাড়ার ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রার শুরু থেকেই ৯০ শতাংশের অধিক ফ্লাইট অন-টাইম ডিপারচারের রেকর্ড বিদ্যমান। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ ফ্লাইট সিঙ্গেল রানওয়ের কারণে একই রানওয়ে দিয়ে এ্যারাইভাল, ডিপারচার করা, শীতকালে ভারী কুয়াশা, গ্রীষ্ম-বর্ষায় কালবৈশাখী কিংবা ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডব, জেট ফুয়েলের রিফুয়েলিং কিংবা অযাচিত টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সময়মতো ফ্লাইট না ছাড়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে অধিকাংশ এয়ারক্রাফটই ব্র্যান্ডনিউ ফলে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অভিযোগ নেই বললেই চলে। প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় সেবা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো সুযোগ। কারণ এয়ারলাইন্স ব্যবসায় সেবাই প্রথম। সেবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা সমাধানের চেষ্টা করছে ইউএস-বাংলা।
বাংলাদেশ এভিয়েশন অগ্রসর হলে, অগ্রসর হবে ইউএস-বাংলা। দেশীয় বিমান সংস্থা হিসেবে ইউএস-বাংলা ‘বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিকশিত করবে, দেশকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায় এই প্রত্যাশা সবার। দ্রুততম সময়ে দক্ষিণ এশিয়া তথা এশিয়ার একটি অনন্য খ্যাতি সম্পন্ন এয়ারলাইন্স হিসেবে এগিয়ে যাবে ইউএস-বাংলা- এই স্বপ্নে বিভোর এদেশের ভ্রমণপ্রেমী জনগণ।
লেখক
মো. কামরুল ইসলাম; ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকা পোস্ট



