বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে নেপাল

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে নেপাল। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৮ হাজার বাংলাদেশি নেপাল ভ্রমণ করেছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এটি ৯০ থেকে ১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতের প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান ক্লাব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্টস (NATA)-এর সেক্রেটারি বিষ্ণু পান্ডে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬-এর ফাঁকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ বাজারে কাজ করছে এবং মূলত ব্যবসা-টু-ব্যবসা (B2B) সেবার মাধ্যমে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করে আসছে। এবারের মেলার মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন অংশীদার তৈরি করা।

পান্ডে জানান, বাংলাদেশি পর্যটকদের নেপালের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বছরে একবার অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা, মাত্র এক ঘণ্টার ফ্লাইট সময় এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও খাদ্যাভ্যাসের মিল।

তিনি বলেন, কাঠমান্ডু, পোখরা ও নাগরকোটের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যের পাশাপাশি এখন অ্যাডভেঞ্চার ও অফবিট ট্যুরিজমেও বাংলাদেশিদের আগ্রহ বাড়ছে। এর মধ্যে মুস্তাং ও মানাং বাইক ট্যুর, এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকিং, আন্নাপূর্ণা ও মানাসলু ট্রেক, প্যারাগ্লাইডিং, বাঞ্জি জাম্পিং, হট এয়ার বেলুন এবং হোয়াইট ওয়াটার রাফটিং উল্লেখযোগ্য।

খাদ্য নিয়ে কোনো বড় সমস্যা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেপালের প্রধান পর্যটন শহরগুলোতে হালাল খাবার সহজলভ্য। পাশাপাশি বাংলা স্বাদের খাবার যেমন আলু ভর্তা, ডাল, চিকেন ভুনা, মাটন কারি ও ভাতের বিভিন্ন পদও পাওয়া যায়।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত বিমান সংযোগের অভাব। বর্তমানে ঢাকা–কাঠমান্ডু রুটে শুধু হিমালয়া এয়ারলাইনস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে বিমান ভাড়া বেশি এবং স্থলপথ না থাকায় বিকল্পও কম।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই এ রুটে আরও নতুন বিমান সংস্থা যুক্ত হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং নেপালের শ্রী এয়ারলাইনস ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। তার মতে, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা থাকায় নতুন সেবা লাভজনক হতে পারে।

দুই দেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, বাংলাদেশে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র এবং শপিং ট্যুরিজম নেপালি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও প্রচারণা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নেপালের ট্রাভেল অপারেটররা বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় নিয়মিত তুলে ধরলেও বাংলাদেশি ট্যুরিজম বোর্ডের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো উচিত।

  • travel based first digital media
  • নেপাল
  • পর্যটন
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া