দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও সেন্ট মার্টিন অভিমুখে ছেড়ে যায়নি কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজ। বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যাত্রী স্বল্পতায় জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সোমবার কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক পর্যটকবাহী জাহাজটিকে চলাচলের অনুমতি দেয়। যেটি বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউটিএর ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্টমার্টিনের পথে জাহাজ ছাড়া সম্ভব হয় নি যাত্রী সংকটের কারণে।
জানা যায় কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজে মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন। কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত মাত্র তিনজন সেন্ট মার্টিন যেতে ইচ্ছুক যাত্রী টিকেট বুকিং দিয়েছে কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজে। তাই যাত্রী সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার জাহাজটি না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করবে ১ ডিসেম্বর থেকে ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের জন্য কক্সবাজার শহররে ঘাট নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে প্রতিদিন এই জাহাজ ছাড়া হবে।
পরিবেশগত বিভিন্ন কারনে সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের গঠিত কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর, কমিটির প্রথম সভায় এই বিষয়টি অনুমোদিত হয়। তবে এবার টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায় নি জাহাজ চলাচলের কোনো কর্তৃপক্ষ। নাফ নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠার কারণে নাব্যতার সংকট ও মায়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর সরকারের পক্ষ থেকে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় মাস সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
