গত ৫ জানুয়ারি থেকে চলা সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রমে জড়িত পর্যটকবাহী নৌ ধর্মঘট অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর গত ৭ জানুয়ারি নৌযান মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। ফলে মোংলা ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট নৌপথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পর্যটকরা আবার সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পটে যাতায়াত শুরু করেন।
তবে এই নৌযান ধর্মঘটের কারণ কি? কি বলছে নৌযান মালিকরা।
জানা যায়, নৌযান মালিকরা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজি শিপিং) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বঘোষণা ছাড়াই অভিযান, জরিমানা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সোমবার ভোর থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন। এতে কয়েক দিন ধরে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
এবিষয়ে মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, মোংলায় প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী জালিবোট রয়েছে এবং প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিদ্যমান। এরপরও হঠাৎ করে সোমবার অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলা হয়, যা বোটের সৌন্দর্য ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট করেছে।
এমতবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা–রামপাল সার্কেলের পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম ও মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান নৌযান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ব নোটিশ ছাড়া কোনো অভিযান পরিচালনা না করা এবং নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে নৌযান মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নৌযান মালিকরা ডিজি শিপিংয়ের হয়রানির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সেই প্রেক্ষিতেই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে পূর্বঘোষণা ছাড়া কোনো অভিযান বা হয়রানি করা হবে না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং পর্যটন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নৌযান মালিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
