দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালুর পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর থার্ড টার্মিনাল। দেশের সবচেয়ে বড় এভিয়েশন মেগা প্রকল্পটির পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে তুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এই আধুনিক টার্মিনাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলমান ধারাবাহিক বৈঠকে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য প্রায় কাটিয়ে ওঠা গেছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী সোমবার তৃতীয় দফার বৈঠকেই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে পরিচালনা কাঠামো, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় প্রায় সম্পন্ন টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও কারিগরি বৈঠকে এসব জটিলতা অনেকটাই সমাধানের পথে।
নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। জাইকার অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্প পরিচালনায় জাপানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করবে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরের জন্য থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। এতে দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।
