বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল চালু করতে আরও ১ বছর সময় লাগবে। ‘থার্ড টার্মিনাল; সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল নির্মান ব্যয়ে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা খতি দেখা হবে। বিমানের গ্রাউন্ড হ্যাংন্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমান গ্রাউন্ড হ্যাংন্ডলিং সেবা দিতে সক্ষম না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় বিমানের সেবা নিয়ে মন:পুত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, টিকিট নেই কিন্তু সিট ফাঁকা এমন অভিযোগ আছে বিমানের বিরুদ্ধে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, থার্ড টার্মিনালে আন্তর্জাতিক সেবা দিতে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।আগামী ১৫ বছরের জন্য এই টার্মিনাল জাপানের অধীনে পরিচালিত হবে। এই টার্মিনাল চালু করা জাতির কাছে একটা স্বপ্ন। আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
বৈঠকে শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল-২-এ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশীজনেরা। বিমানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান দিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এর আগে মূল প্রবন্ধে এভিয়েশন অপারেটর’স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল ও নভোএয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিমানের জিম্মায় তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা দুই বছরের জন্য প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জোর বিতর্ক চলমান এবং তা যৌক্তিক। তৃতীয় টার্মিনাল অপারেশনের ক্ষেত্রে যেন রাজনীতির উপর অপারেশনাল বিষয় প্রাধান্য পায় তার জোর দাবি রাখব। তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা এবং টার্মিনাল অপারেশন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বর্তমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং মনোপলি ভেঙ্গে একাধিক কোম্পানিকে দেয়া হোক। এখানে বিমান প্রসঙ্গ নয়, বরঞ্চ গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবার মনোপলি ভাঙ্গা সম্ভব হলে চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। আর অন্য অপারেটরের সাথে যোগ্য বিবেচনা হলে বিমানকেও জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এতে দেশ এবং জনগণ একধারে আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং উন্নত সেবা পাবে।
