ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ। বকেয়া নেভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, নেভিগেশন চার্জ বাবদ স্পাইসজেটের কাছে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বকেয়া রয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার সমান। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে পূর্বে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। সেই অনুযায়ী আকাশসীমা ব্যবহার অব্যাহত রাখার শর্তে স্পাইসজেট প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার করে পরিশোধে রাজি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করলেও এরপর থেকে আর কোনো অর্থ জমা দেয়নি এয়ারলাইন্সটি। একাধিকবার যোগাযোগের পরও সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
এদিকে স্পাইসজেটের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে জানিয়েছেন, নেভিগেশন চার্জ ও অন্যান্য অপারেশনাল বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এ ধরনের বিষয় আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে সাধারণ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গন্তব্যে পৌঁছাতে অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশ তা বাধা দিতে পারে না। তবে ব্যবহৃত আকাশসীমার জন্য উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত চার্জ দিতে হয়।
তবে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সাধারণত অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে না। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে থাকে।
বকেয়া অর্থ পরিশোধ ও আলোচনার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
